Chez Roopen‎ > ‎

Prashantada 20 :Back to the Future



প্রশান্ত উবাচ :ভবিষ্যৎ ওয়াপসি





কিউপিজে গোবিন্দভোগের উপর সবে গোয়ালন্দ স্টীমার কারি ঢেলে একগ্রাস 
মুখে দেব !

অমনি পিছন থেকে পরিচিত কণ্ঠস্বর : "কি রে কেমন আছিস ?"

দলবল নিয়ে প্রশান্তদা। মাথায় টোকিয়া খড়ের পানামা টুপি ,সবুজ বারমুডা ,লাল হাওয়াইয়ান শার্ট এবং সাদা জার্মান হাওয়াই চপ্পল !

"তোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দি- দিস ইজ অ্যাশ ব্যান্ড্য , ইনি মিনিয়াপোলিস থেকে এসেছেন। ভারতীয় দর্শনের অধ্যাপক । আর ইনি টিশা তালুকদার ---পক্ষীবিদ , দক্ষিণ বঙ্গের হাঁড়িচাচা পাখি নিয়ে উনি কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভূত গবেষণা করেছেন। হাঁড়িচাচা ----যার ল্যাটিন নাম হলো ডেন্ড্রোচিট্টা ভাগাবুনদা | সম্পর্কে কাকের খুড়তুতো ভাইবোন ! ছেলে আর মেয়ে হাঁড়িচাচারা অবিকল এক দেখতে | দৃশ্যত জেন্ডার গ্যাপ কম -ফ্যাসিনেটিং সাবজেক্ট । আর ইনি হ্যারি হালদার ম্যানচেস্টার থেকে এসেছেন নাক কান গলার ডাক্তার ।
এবং লাস্ট বাট নট দা লিষ্ট মেস হল্লি ডে !বার্মিংহাম জাদুঘরের কিউরেটর ! হল্লি আমাদের চিন্তন নেত্রী মায় থট লিডার !!!"

"তোমরা কি সবাই কলকাতায় পুজো দেখতে এসেছো?"

" না রে , আমাদের ডেকেছেন একজন বিশেষ বিদ্দ্বজন , আ সিক্রেট মিশন !"

"ওহো , তাই?"

অ্যাশ ব্যান্ড্য যাঁর বাবা নির্ঘাত নাম দিয়েছিলেন অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন,
 " আমরা আপনাকে বলতে পারি তবে আশা করি গোপন কথাটি রহিবে গোপনে?"

"সে নিয়ে আপনি ভাববেন না প্রশান্তদা , কাকপক্ষী এমনকি তার খুড়তুতো ভাই হাঁড়িচাচাও টের পাবে না !"

"আমাদের ডেকেছেন বিভীষণ শীল ! আগে লাল ছিলেন এখন নীল ! 

বিভীষণ শীল! যার শীল যার নোড়া -বুঝলি তো ? উনি বলছেন -হে আমার অনাবাসী বাঙালিরা আমাদের পুজো জাহান্নমে গেছে | তাই সনাতন ডাকের সাজে সাবেকি ঢঙে পুজো হোক ! অনাচার হচ্ছে -সিঁদুর খেলার বদলে লেজার খেলা, দুগ্গা থ্রী ডি প্রিন্ট , কার্তিক ভার্চুয়াল রিয়ালিটি , গনেশ অগমেন্টেড রিয়ালিটি , লক্ষী হলোগ্রাম , প্যান্ডেলে সভাকবির চটুল হিন্দি গান -চলবে না -ব্যাক টু দা ফিউচার -ভবিষ্যৎ ওয়াপসি !"

"অতঃ কিম?'

"ডাকের সাজ মানে জানিস উপেন ?"

"আলবাত! দু রকম সাজ হয় শোলার সাজ আর ডাকের সাজ ! ধনী জমিদাররা জার্মানি থেকে রাংতা আমদানি করতেন যাতে মায়ের সাজ ঝকমকে হয় ! সেই রাংতা আসতো পোস্ট অফিসের মারফত তাই ডাকের সাজ !"

"আমরা সেই রাংতা আবার আমদানি করবো জার্মানি থেকে ! তবে ডি এইচ এল মারফত! জার্মান ডাক হলো ওই কোম্পানির মালিক ! আর ডিজাইন করবেন প্যারিসের অনাবাসী বাঙালি সম্বিত সেনগুপ্ত -আমরা ইমেল পাঠিয়েছি !"

"যিনি উইপ্রোর লোগো ডিজাইন করেছিলেন ? হাওড়ার ছেলে? মা ঠোঙা বিক্রি করতেন বলে যাঁর নিজের কোম্পানির প্রতীক ঠোঙা ? তিনি তো এইসব আঁতলামি নিয়ে মাতলামি করবেন না!!!!"

" সনাতন দিন্দার মতো শিল্পীরা বাংলার কৃষ্টিকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন , কুমোরটুলির শিল্পীরা ভুলে গেছেন মৃৎশিল্প , ওদের আমরা লঙ্কা সায়রে নিয়ে গিয়ে  স্কিল বিল্ডিং করাবো ,যাতে ভূতের ভবিষৎ উজ্জ্বল হয় !"

"সে কি লাঙ্কাশায়ারে মৃৎশিল্পের কথা তো শুনি নি !"

"আছে ভাই আছে , দুজন অনাবাসী ভারতীয় পাল্ভ্রাতা এবং দুজন বাংলাদেশী চাকমা সেই পুরোনো সাবেকি ঘরানার মৃৎশিল্পে কুমোরটুলির শিল্পীদের তালিম দেবে , ব্রিটিশ বিমান সংস্থা টিকেট দেবে ! ওরা আমাদের ট্রাভেল পার্টনার ! আর অনাবাসী বাঙালিরা চাঁদা তুলছে কলকাতার কুমোরটুলির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য !"

" গৌরব যায় নি তো , সারা পৃথিবীর লোক আসে পুজো দেখতে !"

মিস হল্লি পরেছিলেন একটা জাম রঙের মহেশ্বরী , হাঁড়িচাচার নীড়ের মতো চোখ তুলে বললেন , " এক্সকিউসে মোয়া , আপনি হয়তো এনিয়ে বিশেষ গবেষণা করেননি , আমি ব্রিটিশ জাদুঘরে দু হাজার দুর্গার ছবি আর চার হাজার পাতার নথি পড়েছি আজকের মূর্তি একেবারেই অথেন্টিক নয় ভাই !"

টিশা , হ্যারি , অ্যাশ এবং প্যাশ এক সঙ্গে বললেন ," আমরাও সহমত ! আপনি কি জানেন ভাই? এইতো আমরা দু হাজার পাউনড পুরস্কার দিলাম তালপুকুরের দুর্গাকে ! আমরা জুরি ছিলাম ! তালপুকুরে পুরস্কার দিতে  কি তাণ্ডামোনিয়ামটাই না হলো !"

আমি বললাম , "আপনাদের এই প্রোজেক্টের বাজেট কত?"

টিশা তার স্কার্ফ বাঁধতে বাঁধতে বললেন," প্রায় এক লক্ষ ডলার।আমরা চাঁদা তুলতে শুরু করেছি !"

আমি বললাম," হে ভগবান আপনারা কোন জগতে বাস করেন , পুরো প্রজেক্টের টার্গেট মাত্র সত্তর লক্ষ টাকা ! তাও চাঁদা তোলা বাকি ? তাই তো কবি বলে গেছেন -সাত লক্ষ (অনাবাসী )সন্তানেরে হে বঙ্গজননী , রেখেছো ছাপোষা করে ,ব্যবসায়ী করো নি ! আরে মশাই এখানে একটা প্যান্ডেলে বাজেট দশ কোটি টাকা আর আপনারা প্রিন্স দ্বারকানাথের যুগে ফিরবেন সত্তর লক্ষ টাকায় ?"

"তা কত লাগবে ," জিগ্যেস করলেন হরিনাথ হালদার ওরফে হ্যারি , আসলে কালীঘাটের সেবাইত বংশ |অধুনা ম্যানচেস্টার নিবাসী !

"অন্ততঃ পঞ্চাশ কোটি মহায় , এসব খুচরো পয়সা নিয়ে কলকাতায় খেলতে আসলেই লোকে হাসবে, তার থেকে কুমোরটুলি থেকে ঠাকুর ফেডেক্স করে দিচ্ছি , ম্যানচেস্টারে পুজো করুন, মস্তি করুন! প্রবাসী বাঙালি কথাটা কত মিষ্টি ! তাই না? তা না ----আমরা বাসি আর ওনারা অনাবাসী !"

"অত টাকা কোথা থেকে পাবো ?"

"আপনারা স্পনসর সন্ধান করুন যারা যুদ্ধ জাহাজ, ট্যাংক বন্দুক সাঁজোয়া গাড়ি প্লেন বিক্রি করে -বোম্বাদীয়ের , লকহিড মার্টিন , দাসও , নরথ্রপ গ্রূমান , ব্রিটিশ এরোস্পেস, রেথিওন , রোলস রইস -এরা সবাই স্পনসর করবে ! "

অ্যাশ বললেন ,"এসব পারবো না ভাই."

"তাহলে আপনারা চিন্তা প্রাকটিস করুন আপনাদের দেশে ফিরে ! এখানে এসে প্যান্ডেল ঘুরুন মজা করুন আর পাঁচটা প্রবাসী বাঙালির মতো! যেমন সবাই করছে ! মিলে মিশে আজ সবাই বাঙালি ! ডাকের কাজ কুমোরটুলির শিল্পীরাই পারবেন , ভারতীয় রাংতা দিয়ে! তার জন্যে রানিগঞ্জে বা নিউ ক্যাসলে কয়লা রফতানির দরকার নেই ! ওসব আজগুবি প্রজেক্টগুলো শিকেয় তুলুন ,!আসুন কব্জি ডুবিয়ে খাই, জয় মা , আমাকে আর  একটা ডাব চিংড়ি দিন তো ভাই."


টিশা , হ্যারি , অ্যাশ এবং প্যাশ সবাই আহারে মন দিলেন ! দুগ্গা, দুগ্গা ।



Comments