Chez Roopen‎ > ‎

Prasanta-da-12





প্রশান্তদা উবাচ : পর্তুগালের  প্রবচন 




কাল মাঝ রাতে প্রশান্তদা ফোন করলেন, "কি রে উপেন কেমন আছিস?"

"আমি তো ভালো, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম , কি বলছো?'

"তোদের দেশ তো পাগলা জজে  ভোরে গেলো , একজন  সুপ্রিম কোর্টের জজদের জেলে পাঠাচ্ছেন আর একজন  ময়ূরের কোর্টশিপ নিয়ে গগনবিদারী তত্ত্ব উদ্ভাবন করছেন  ।"

"যাই হোক আমাদের রাষ্ট্রপতি কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ !"

"এই, এটা কিন্তু কোমরবন্ধের নিচে আঘাত, জেনিভা কনভেনশন লঙ্ঘন ! কি কান্ড বলতো গরু, ময়ূর, টুন্ডে কাবাব -এসব নিয়ে সুরৎ কিতাবে  এতো মাতামাতি কেন ?"

"তুমি এখন কোথায় প্রশান্তদা ?"

"আমি এখন পর্তুগালে রে, প্রায়া দা  রোশা অর্থাৎ পাহাড়ি সৈকত , এখানে একটা টিলার উপর ফাসক্লাস হোটেল আছে নাম বেলা ভিস্তা , সেখানে  বসে আমি কনকনে শীতল গোলাপি মাথেউস রোজে সেবন করছি ।"

"তুমি তো  পড়াও নেব্রাস্কাতে , আল গার্ভে কি করছো ?"

" অর্থনীতিবিদদের শুধু পড়ালে চলবে ? আমাদের প্রতিভা বহুমুখী, তার বিকাশ ঘটাতে হবে না ? আমি এখানে পর্তুগিজ শিল্পকলা কিভাবে গোয়ার সুজাকে প্রভাবিত করেছিল তাই নিয়ে ভাষণ দিচ্ছি, বুঝলি?'

"তুমি তো জিন্দেগীতে গোয়া যাওনি , পড়েছো হিন্দু বাবাজীদের  স্কুলে , তুমি এসবের কি জান  বাবা, তাও  যদি আমার সহপাঠী জহর সরকার হতো তো বুঝতাম!"

"ওরে আমি বিস্তর গবেষণা করেছি  আর ভাষণের  ছলাকলা আমার জানা , নেব্রাস্কা শব্দটা শুনলেই এই পর্তুগিজ গাঁইয়ারা সম্মোহিত হয়ে যাবে , তারপর অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তনের উপকারিতা নিয়ে বলি না কবুতরের যৌন জীবন -কি আসে  যায় ? "

" তোমাকে যদি কেউ প্যারিস চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করে , ইউরোপীয়ানরা তো খুব খাপ্পা !"

"বলবো শুধু প্যারিস দেখলে হবে বাছাধন, আমাদের করদাতারা ক্লাইমেট বুজরুকির জন্য টাকা খরচ করবে কেন? আর এইসব করতে গিয়ে আমাদের আমেরিকানরা চীনে আর ভারতে চাকরি রফতানী করবে  কি জন্য ?"

"না না আমাদের এখন আমেরিকান চাকরির দরকার নেই, চর্মশিল্পে আমরা এক নম্বর হতে চলেছি ।"

"তা কি করে হবে রে , বাংলার  গরু মোষ তো আসে বিহার আর উত্তর প্রদেশ থেকে, পশ্চিম বাংলায় গরু মোষ কোথায় ? "

"আসবে, আসবে, আরা জিলা মে ঘর বা , তো কা চিজ কে ডার বা ! বানতলার কাছে নতুন কমপ্লেক্সের নাম খোঁজা চলছে , এগিয়ে আছে  "আরা বুল দেদার বক্স হাইড কমপ্লেক্স" !"

"আর ময়ূর কি বলছে ?"

"হতবাক হয়ে গিসলো , চোখে জল যাতে না আসে তাই নতুন একজোড়া "রে বান" কিনেছে আর সোশ্যাল চয়েস তত্ত্বের কথা ভাবছে : "ফুল নেবো না অশ্রু নেবো ভেবে হৈ আকুল ! " অর্থাৎ ফুল অর্থাৎ এই চার অক্ষরের বোকাটার কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো , এই ভেবে  আমি আকুল ?"

" এই শোন আমার আরোশ দা মারিসকো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে , বাই  ফর নাউ !"





Comments